কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ। খয়রামারি বনগাঁ কলেজ রোড সংলগ্ন খয়রামারীতে আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে এক সময়ের জ্ঞানতীর্থ—বনগাঁ শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠী। দেওয়ালে বসানো দুটি ফলক আজও সাক্ষ্য বহন করছে সেই গৌরবময় অতীতের, অথচ বর্তমান সময়ে এই ঐতিহ্যবাহী টোল আজ চরম অবহেলার শিকার। ফলকে উৎকীর্ণ তথ্য অনুযায়ী, ৪ঠা আশ্বিন ১৩৬৩ বঙ্গাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন উন্নয়ন মহাধ্যক্ষ শ্রীহিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, আই.এ.এস, মহোদয়–এর দ্বারা এই চতুষ্পাঠীর দ্বারোদ্ঘাটন হয়।পরবর্তীকালে ৫ই ফাল্গুন ১৩৬৩ বঙ্গাব্দে, বনগাঁর সংস্কৃত সাধক শ্রীযুক্ত সুন্দর দত্ত কার্ত্তিক মহোদয়–এর উদ্যোগে এই চতুষ্পাঠীর পরিকাঠামোগত ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।
এই ফলক দু’টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—এই টোল কোনও সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি বনগাঁর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজ সমগ্র বনগাঁ মহাকুমায় একমাত্র বনগাঁতেই এই ঐতিহাসিক টোলটি জীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙা দরজা, খসে পড়া দেওয়াল, উপেক্ষিত চত্বর—সব মিলিয়ে যেন ইতিহাস নিজেই নীরবে প্রশ্ন তুলছে।
রাষ্ট্রবাদী নেতৃত্ব সন্তু শিকদার বলেন,
“এই টোল আমাদের ভারতীয় শিক্ষাধারার গর্ব। এটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া মানে নিজেদের শিকড় অস্বীকার করা।” রাষ্ট্রবাদী চিন্তাবিদ জগন্নাথ মন্ডল মনে করেন, “সংস্কৃত চর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরার কেন্দ্র ছিল এই চতুষ্পাঠী। এর পুনর্জীবন মানে জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।”
আইনজীবী সঞ্জিত বিশ্বাস প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের যোগ্য। অবিলম্বে সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।”
এই পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে উঠে এসেছেন সমাজকর্মী দেবর্ষি বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই টোলের সংস্কার ও পুনর্জীবনের দাবিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনিক স্তরে স্মারকলিপি, সমাজমাধ্যমে প্রচার এবং স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে তিনি এই ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন।
দেবর্ষি বিশ্বাসের বলেন “বনগাঁর আত্মপরিচয় এই টোলের সঙ্গে জড়িয়ে। এটিকে বাঁচাতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”
আর কতদিন অবহেলায় পড়ে থাকবে বনগাঁ শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠী? প্রশ্ন তোলেন সমাজের একাংশ
স্থানীয় বুদ্ধিজীবী মহল ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি,
অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক টোলের সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্জীবন করা হোক, যাতে আবারও এখানে জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ফিরে আসে।
ইতিহাস ডাকছে, সময় এসেছে জবাব দেওয়ার।
বনগাঁর শ্রীকৃষ্ণ চতুষ্পাঠী বাঁচলে—বাঁচবে বনগাঁর আত্মা।

































































































































































































