কুন্তল চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠ যেন শুক্রবার সকাল থেকেই পরিণত হয়েছিল রাজনৈতিক দৃঢ়তার মঞ্চে। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জনতা পার্টির উত্তর ২৪ পরগনা বিভাগীয় কার্যকর্তা সম্মেলনে দলীয় কার্যকর্তাদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা স্পষ্ট করে দিল—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি সংগঠন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সম্মেলনের মূল সুর ছিল সংগঠন, সংকল্প ও রাষ্ট্রবাদী ভাবনা। প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে কার্যকর্তাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান—ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে পরিবর্তনের বার্তা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে লড়াই এখন আদর্শ ও সাহসের। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য সংগঠনের বিস্তার ও শৃঙ্খলার উপর জোর দিয়ে জানান, উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই পরিবর্তনের ঢেউ ছড়াবে গোটা রাজ্যে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিভা মজুমদার ও সাংসদ লকেট চ্যাটার্জী। তাঁদের কণ্ঠে উঠে আসে নারী শক্তি ও যুব সমাজকে একসঙ্গে নিয়ে এগোনোর ডাক। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুর তাঁর বক্তব্যে জানান, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সংগঠনের শক্তি মিলেই ২০২৬ সালে পশ্চিমবাংলায় নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি করবে।
স্লোগান, করতালি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ব্যারাকপুরের এই সম্মেলন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল—বিজেপি শুধু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে না, বরং সংগঠনের প্রতিটি স্তরে লড়াইয়ের রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে। ২০২৬-কে লক্ষ্য করে এই সম্মেলন যে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

































































































































































































