কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ। অনেকেই মাধ্যমিক পাশের পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু সবার জীবনে সেই সুযোগ সমানভাবে আসে না। আর্থিক চাপে অনেক স্বপ্ন থমকে যায় বাস্তবের কঠিন দেয়ালে। তেমনই এক লড়াকু তরুণের নাম দেবপ্রিয় হালদার। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার পথ না বেছে, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরের রাখাল দাস সেতুর নিচে সন্ধ্যা নামলেই দেখা যায় তাঁর ছোট্ট ঘুগনির স্টল। সাধারণ কাঠের বাক্স, একটি বড় হাঁড়ি আর সামান্য উপকরণ—এই সামান্য পুঁজিতেই চলছে তাঁর রোজগার। দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই। পথচলতি মানুষ, ছাত্রছাত্রী, শ্রমজীবী—সবাই তাঁর ক্রেতা।
দেবপ্রিয় জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল নয়। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সংসারের প্রয়োজনে রোজগারের পথ বেছে নিতে হয়েছে। “কোনো কাজ ছোট নয়”—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি আত্মসম্মান নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই পরিবারের খরচের একটা বড় অংশ সামলান।
স্থানীয়দের কথায়, দেবপ্রিয়র আচরণ ভদ্র, ব্যবহার আন্তরিক। অল্প বয়সে তাঁর এই দায়িত্ববোধ ও শ্রমনিষ্ঠা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা নত না করে, নিজের পরিশ্রমে জীবন গড়ার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
আজ যখন অনেক তরুণ হতাশায় ভোগেন, তখন দেবপ্রিয় হালদারের মতো যুবকেরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন—সংগ্রামই সাফল্যের প্রথম ধাপ। তাঁর এই পরিশ্রম, আত্মসম্মান ও লড়াইকে নতমস্তকে অভিবাদন জানায়।

































































































































































































