বনগাঁ, নিজস্ব সংবাদদাতা। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার পেট্রাপোলকে কেন্দ্র করে এক নতুন ঐতিহাসিক প্রস্তাব সামনে এসেছে। সীমান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লিবার্টির আদলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয়তাবাদী নেতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটি গগনচুম্বী মূর্তি নির্মাণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রস্তাবকদের মতে, দেশভাগের সময় বাংলার পশ্চিমাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ভারত–বাংলাদেশের বাণিজ্য ও যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পেট্রাপোল স্থলবন্দর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং বিপুল পণ্য এই পথ দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আদান–প্রদান হয়। ফলে সীমান্তের এই প্রবেশদ্বারেই যদি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটি বিশাল স্মারক মূর্তি গড়ে ওঠে, তবে তা নিঃসন্দেহে সীমান্তের বুকে ইতিহাসের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবাদী নেতৃত্ব সন্তু শিকদার বলেন, “বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। দেশভাগের সময় তাঁর দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের ফলেই পশ্চিমবাংলা ভারতের অংশ হিসেবে রয়ে যায়। সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতে পেট্রাপোল সীমান্তে তাঁর একটি গগনচুম্বী মূর্তি নির্মাণ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”
রাষ্ট্রবাদী চিন্তাবিদ জগন্নাথ মন্ডল বলেন, “আজকের প্রজন্মের বড় একটি অংশ দেশভাগের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে খুব কমই জানে। পেট্রাপোলের মতো আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যদি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর স্মারক গড়ে ওঠে, তবে তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের অতীত সম্পর্কে সচেতন করবে।”
একই দাবি জানিয়েছেন ভারতীয় মজদুর সংঘের অন্যতম নেতৃত্ব অরুনাভ পোদ্দার। তাঁর কথায়, “এ ধরনের একটি প্রকল্প শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতি রক্ষাই করবে না, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বড় মাপের একটি স্মারক নির্মিত হলে দেশ–বিদেশের পর্যটক এখানে আসবেন, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন, হোটেল ও পরিষেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”
প্রস্তাব অনুযায়ী, এই গগনচুম্বী মূর্তির পাশাপাশি একটি আধুনিক স্মারক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার ভাবনাও রয়েছে। সেখানে জাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র, তথ্য প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাতে মানুষ সহজেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জীবন, আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মতে, পেট্রাপোলের মতো আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যদি স্ট্যাচু অফ লিবার্টির আদলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটি গগনচুম্বী মূর্তি নির্মিত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলার ইতিহাস, জাতীয় চেতনা এবং সীমান্তের গৌরবের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠবে।

































































































































































































