কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ।সংস্কৃত শিক্ষার পুনর্জাগরণে টোল চালুর দাবি জোরালো। প্রাথমিক বিদ্যালয় যেমন শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলে, তেমনই চতুষ্পাঠী বা টোল সংস্কৃত শিক্ষার মূল স্তম্ভ—এই দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্যের সংস্কৃত শিক্ষাব্যবস্থা। চতুষ্পাঠীর অভাবে রাজ্যজুড়ে দক্ষ পুরোহিত ও প্রকৃত শাস্ত্রবিশেষজ্ঞের ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে বলে মত শাস্ত্রজ্ঞ পুরোহিত পিনাক ভট্টাচার্যের। তাঁর বক্তব্য, টোলভিত্তিক শিক্ষায় ব্যাকরণ, মীমাংসা, ন্যায়, স্মৃতি ও আচার—এই সমন্বিত ধারাই একজন পূর্ণাঙ্গ পুরোহিত ও শাস্ত্রজ্ঞ তৈরি করে, যা আধুনিক ব্যবস্থায় ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। পিনাক ভট্টাচার্যের এই মতের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ পূজারী সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি জানান, শুধুমাত্র বইনির্ভর শিক্ষা নয়, গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চর্চাই শাস্ত্রের প্রকৃত উপলব্ধি ঘটায়। টোল না থাকলে আচারানুষ্ঠানের শুদ্ধতা, মন্ত্রোচ্চারণের যথার্থতা ও শাস্ত্রজ্ঞান—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়ে।
দু’জনেরই অভিমত, অবিলম্বে রাজ্য জুড়ে সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারের স্বার্থে টোল পুনরায় চালু করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে টোল স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, তেমনই ভবিষ্যতে দক্ষ পুরোহিত ও শাস্ত্রবিশেষজ্ঞের অভাব দূর হবে। সংস্কৃত শিক্ষার এই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

































































































































































































